কোন বিষয়কে জীবনের লক্ষ্য করে তুলবেন
‘নিজের লক্ষ্যকে ভুলবেন না, তা না হলে ভালো মন্দ যা পাবেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।’
-জর্জ বার্নার্ড শ

আপনি নিশ্চই বুঝেছেন যে, জীবনকে সুখ ও সম্পন্নে ভরিয়ে তোলার জন্য লক্ষ্য গড়ে তোলা খুবি জরুরি, কিন্তু এর পড় যে প্রশ্ন ওঠে তা হল কোন কোন ব্যাপারে লক্ষ্য গড়ে তোলতে হবে। সারা ভারত জুড়ে বহু ছোট বড় সেমিনারে আমি অংশ গ্রহন করি, প্রায় লক্ষ্যাধিক লোকের মুখে একই প্রশ্ন শুনতে পাই-তা হল কোন কোন বাপারে লক্ষ্য গড়ে তুলতে হবে। এই বিচিত্র ভারতবর্ষে বিচিত্র রকম মানুষ বাস করে,বিভিন্ন শহরে ভিন্ন বয়সের বিভিন্ন রকম লোক বাস করে, এমন কি তাদের খাদ্য গ্রহনের অভ্যাসও আলাদা, কিন্তু সকলের মোখে একি প্রশ্ন শোনা যায়, কি ব্যাপারে কি ভাবে নিজেদের লক্ষ্য গড়ে তুলবে। প্রিয় পাঠক! এখানে আপনাদের লক্ষ্য ও আপনাদের জীবন নিয়ে আলোচনা চলছে, তাই কোন একটা ব্যাপারে জীবনের লক্ষ্য গড়ে তুললে তাকে জীবনের লক্ষ্য বলা যায় না, সারা জীবনের লক্ষ্য তৈরী করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য গড়ে তোলার সময় নিজের পড়াশোনার কথা ভাবুন, নিজের উন্নতির কথা ভাবুন, নিজের পরিবারের কথা ভাবুন। এছাড়া নিজের উপার্জনের কথাও ভাবতে হবে,সেই সমস্ত কাজের কথাও ভাবতে হবে যা আপনাকে
এই জীবনেই শেষ করতে হবে। যখন জীবনের সমস্ত বাপারে লক্ষ্য গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন, সেই অনুসারে কাজ করতে শুরু করার পর, আপনি নিজেই সফলতার ঝলক দেখতে পাবেন। যখন জীবনের লক্ষ্যের প্রশ্ন আসে তখন সামাজিক দায়িত্বকে অস্বীকার করলে চলেনা, সেই ব্যাপারেও লক্ষ্য প্রস্তুত করতে হবে।যে কোনো একটা ব্যাপারে লক্ষ্য নির্ধারণ করলে তাকে জীবনের লক্ষ্য বলা যায় না, বরং জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিচার করতে হবে, এবং আলাদা আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সুতরাং সবার আগে আপনি নিজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে লক্ষ্য নির্ধারণের কাজটা সেরে ফেলুন।আমি বলতে চাইছি যে, সবার আগে পড়াশোনার ব্যাপারে লক্ষ্য গড়ে নিন, তারপর নিজের পরিবারের কথা ভাবুন,এক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ পরিবার সম্পর্কে ভাবতে ভুলবেন না।এরপর আপনি কোন জীবিকায় যেতে চান এবং কত টাকা উপার্জন করতে চান সে ব্যাপারেও লক্ষ্য বানিয়ে নিন।
পড়াশোনা, পরিবার ও উপার্জন সংক্রান্ত লক্ষ্য নির্ধারণের পর সামাজিক,রাজনৈতিক এবং অন্যান্য বিষয় গুলির দিকে তাকাতে হবে, সেই ব্যাপারে জীবনের লক্ষ্য গড়ে তুলতে হবে এবং তা লিখে ফেলতে হবে। এটা আপনাকে স্বীকার করতেই হবে যে, জীবনের সমস্ত ব্যাপারে লক্ষ্য লেখার পরই সর্বাঙ্গিন সফলতা পাওয়া সম্ভব। সুতরাং যখনই লক্ষ্য সম্পর্কে আলোচনা করা হবে, তখন কোনো একটা বিন্দু নিয়েই পরে থাকবেন না, বরং জীবনের প্রতিটা ব্যাপারে লক্ষ্য নির্ধারণ করার চেষ্টা করুন।
